ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন – নসিব পঞ্চম জিহাদী (Phool Lagle Cheye Niben by Nosib Ponchom Zehadi) –
Book Review
বইয়ের নাম :- ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন
লেখক :- নসিব পঞ্চম জিহাদী
প্রকাশক :- সৈয়দ মোহাম্মদ রেজওয়ান।
প্রকাশনী :- বুক স্ট্রিট।
দাম :- ২৮০টাকা।

ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন বইটির নাম দেখে প্রথম ভাবনাঃ
ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন (বেলা দুই ঘটিকা হইতে) নামটি দেখে প্রথমে প্রেমকাহিনী মনে হলেও বইটিতে রহস্যে ভরা। বাক্য দুইটিকে প্রথমে এক মানে ভাবলেও আসলে বইয়ের ভিতরে বাক্য দুটি আলাদা কাহিনী।
ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন বইটিতে কতটি প্রচ্ছদ আছে?
‘উপসংহারের আগে’ এবং ‘উপসংহারের পরে’ নামে দুইটি প্রচ্ছদ রয়েছে। এছাড়াও দশটি প্রচ্ছদ রয়েছে।
ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন বইটি কি নিয়ে লিখা?
পুরোনো বন্ধুরা সময়ের সাথে একসময় হারিয়ে যায়। দু-একজনের সাথে সম্পর্ক থাকলেও খুব কম দেখা হয়। কিন্তু তাদের বিপদে ঠিকি পাশে দাঁড়াতে হয়। এমনি এক বন্ধুর বিপদে এসে কত রহ্যসের সমাধান যে হয়!সাথে পুরাতন প্রিয়জনকে সুস্থ দেখতে পাওয়া সহ তার মুখ থেকে সব কথা শুনতে পাওয়া।
ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন বইটির প্রাসঙ্গিক বিষয়ঃ
বন্ধুত্ব, পুরাতন বন্ধুদের সাথে সেইসব জায়গার স্মৃতি, বিপদে বন্ধুর সাহায্য করা। এইসবের মধ্যে ভাষা নিয়ে গবেষনা করতে গিয়ে কি কি বাধা আসে? কেন আসে? কারা করে এইসব? একটি ভাষাকে কেন্দ্র করে সব রহস্য। রংগরংগ ভাষা থেকে মানসিক সমস্যা যেটার নাম এলিয়েন হ্যান্ড সিন্ড্রোম। রংগরংগ ভাষা এমন ভয়াবহ কি করে হলো, এত মানুষের মধ্যে কি করে হল সব রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে।
ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন বইয়ের সারসংক্ষেপঃ
ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন Phool Lagle Cheye Niben by Nosib Ponchom Zehadi বইটি প্রথম প্রকাশ করা হয় ফেব্রুয়ারী ২০২১।
যে বন্ধুদের সাথে দুপুর থেকে রাত হয়ে যেত কাপের পর কাপ চা খেয়ে, এক সময় সেই কাছের বন্ধুরাই দূরে সরে যায়। তাসভীর মুনতাসির সপ্তাহে দুবার ডাকতো আংকেল কিডের দোকানে, যাতে তারা দূরে সরে না যায়। লেখক তার লেখা বইটি উৎসর্গ করেছেন লেখকের খোকন মামা, বন্ধু তাসভীর, জহুর, শাওন আরাফাত ও অত্র এলাকার প্রিয় তিনটি কুকুর – শান্ত, সাধু ও বেয়াদবকে।
ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন বইটি শুরু করা হয়েছে উপসংহারের আগে প্রচ্ছদ দিয়ে এবং শেষ হয়েছে উপসংহারের পরে প্রচ্ছদ দিয়ে। আর এর মধ্যে আরও রয়েছে দশটি প্রচ্ছদ।
উপসংহারের আগে- Phool Lagle Cheye Niben by Nosib Ponchom Zehadi
আজ ইঞ্জিনিয়ার রকিব উদ্দিনের মেজাজ অনেক খারাপ। কারন পুরান ঢাকায় পানির লাইন ঠিক করার জন্য ম্যানহোলের ভিতর নামতে যে সুপারভাইজারের সাহায্য করার কথা ছিল সে আসেনি। তাই তিনি একটি টর্চ নিয়ে ম্যানহোলে নামলেন। মিনিক বিশেক পর পাইপের শেষ মাথায় একটি লোহার বড়সড় ঘর দেখতে পেলেন যার আন্ডারগ্রাউন্ড স্ট্রাকচারের সাথে মিল নেই। এই বিষয়টি তিনি তার সুপারভাইজার এবং সাংবাদিককে জানালে তারা বিষয়টি ভুলে যেতে বলে।
ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন – Phool Lagle Cheye Niben by Nosib Ponchom Zehadi
শুক্রবার ভোর পাঁচটায় ফারাবীর ফোনে ঘুম ভাঙলো। বাসায় পুরোনো ডায়ালঅলা টেলিফোনটা আছে কি না জানতে চাইলো। তারপর বললো ২০০১ এর পর থেকে সেটা আর দেখেনি। তারপর ফারাবীর সাথে দেখা করতে কেল্লায় গেলো।
একদিন বাসে নব ডেকে বললো,তোমাদের সবার চেহারা মুখস্ত হয়ে গেছে তোমাদের জন্য বারান্দায় আসা হয় না। তখন তাকে মাফ করে দাও বলায় সে বলে সে তাদের সিনিয়র।
এই তিতাস টি স্টলে বসেই কাছের বন্ধু রুবায়েতের মৃত্যুর খবর পাওয়া,প্রিয় বন্ধু কাওসারের নরওয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছিল।পাশের একটা হোটেলে বসলো নাস্তা করার জন্য বসলো ফারাবী। তারপর বললো একটা টেলিফোন লাগবে অথেনটিক ভার্সন। তখন নবর কথা বলাতে ফারাবী বললো তোরতো দেখি পুরান প্রেম জেগে উঠলো। (Phool Lagle Cheye Niben by Nosib Ponchom Zehadi)
নবদের বাড়ি ভাঙার পরও তাদের বাড়ির কেয়ারটেকার মজনু কে ওখানেই পাওয়া গেলো। তিনি দেখেই চিনতে পারলেন। মজনু ভাইকে টেলিফোনের কথা বলাতে তিনি দিতে রাজি হলেন।
ফারাবীর বাড়ি বগুড়াতে। ১২দিনের ছুটি নিয়ে বগুড়া গেলেও চারদিন পরেই চলে আসতে হয়েছে। তারপর কোনো কাজ না থাকায় জেলে কিসলুকে দেখতে গেলো। বাসায় এসে শুনা গেলো মা একটা মেয়ে পছন্দ করে রেখেছে,তাকে দেখতে যেতে হবে। বহু বছর নবর সাথে থেকে যে অভ্যস্ততা হয়েছিলো,এখন তার জায়গা অন্য কাউকে দিতে হবে।
তারপর ফারাবী বললো,নবর বাবার টেলিফোনটা থেকে বিথীকে ফোন করার সময় কে যেন ফিসফিস করে বললো ‘লাল মোহন মিষ্টি। ফোন ধরার পর বিধীকে বললো তুই কি মিষ্টি খাচ্ছিস! লাল মোহন মিষ্টি!? ও অবাক হয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলো,কিন্তু ওকে তো এই ব্যাখ্যা বলা যায়না। ঘটনাটা যখন তাদের দুজনের সামনে ঘটলো তখন তারা উপলব্ধি করলো,একটা শব্দ বারবার শোনা যাচ্ছে। শব্দটার বাংলো মানে করলে এমন হয়-ঞাঘ য়ামান!
১৯৮৪সালের ১০ জুন মুবিনের বিয়ে হলো। সব ঠিকঠাক চলছিলো হঠাৎ একরাতে দেড়টার সময় মুবিনকে বলে তার ডান হাত কথা শুনছে না। মুবিন মানে জানতে চাইলে সে বলে এইটা অন্য কারো হাত। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে চাইলে সে বলে হাতটা কেটে ফেলতে হবে, না হয় একদিন তোমার গলা চেপে ফেলতে পারে। আস্তে আস্তে বেশি অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে দেখের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তার বলে এটা একধরনের মানসিক রোগ। (Phool Lagle Cheye Niben by Nosib Ponchom Zehadi)
একদিন অফিসে কাজ করার সময় মুবিনের কাছে টেলিফোন আসে এবং তাকে আলতাফ সাহেব বলেন বিশ মিনিট পরে খুলনার ট্রেন ছাড়বে তুমি চলে আসো। কি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জয়িতা তার নিজের ডান হাত কুপিয়ে কেটে ফেলেছে, হাসপাতালে নিতে নিতে জয়িতা আর টিকতে পারেনি। সেদিন মুবিন খুলনার ট্রেন ধরলেও তাকে কোনোদিন খুলনায় দেখা যায়নি।
বর্তমানে আরিচা ঘাটে এক পাগল বৃদ্ধকে দেখা যায়। যে প্রতি বছর জুন মাসের দশ তারিখে আকাশ-বাতাস কাপিয়ে কাঁদে। এই পাগলের নাম মুবিন এবং তিনি একসময় মন্ত্রণালয়ের বড় পদে চাকরি করতেন।
ছাব্বিশ দিন হয়ে গেলো ফারাবীকে পাওয়া যাচ্ছে না। বিথীর দেওয়া ঠিকানায় ওয়াসি ভাইকে নিয়ে খোঁজ করতে গিয়ে জানা গেলো ফারাবী বলছিলো যে তার ডান হাতটা নাকি তার কথা শুনছেনা। ফারাবীর মনে হচ্ছে তার ডান হাত কেটে ফেলতে হবে। এইকথা শুনে মনে হলো অপরিচিত কথা না। কারন বহু বছর আগে নবও বলেছিল এমন কথা। এখন সে যুক্তরাষ্ট্রের একটা অ্যাসাইলামে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় পড়ে আছে। (Phool Lagle Cheye Niben by Nosib Ponchom Zehadi)
উইন্ডশিল্ডের উপর চিরকুটের মতো একটি কাগজে টাইপ করে লিখা ছিলো – ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন (বেলা দুই ঘটিকা হইতে)।
মনসুর সাহেবের সাথে কথা বলে,তাকে নিয়ে ইমতিয়াজের বাড়িতে যেতেই বাড়ির সামনের সাইনবোর্ড দেখে গা ছমছম করলো। কারন তাতে লিখা- ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন
তার বাড়িতে গিয়ে জানা গেলো বাড়ির কেয়ারটেকাররা বাড়ির বাইরে থাকেন কারন রাতের বেলা ভিতরে শব্দ হয়। তার লাইব্রেরি থেকে একটা ডায়েরি পাওয়া গেলো। যেখানে একটু লেখা ছিলো যে নর্থব্রুক হলের পাশের দালান থেকে দশ বারো জন সাহেব একই ইউনিফর্ম পরা এবং সবার ডান হাত কাটা। দালানটির নাম হাত-কাটারী দালান এবং বেলা দুই ঘটিকার সময় সবাই প্রবেশ করে। (Phool Lagle Cheye Niben by Nosib Ponchom Zehadi)
সেইরাতে টেলিফোনের আওয়াজ থেকে একটি কোড জানা গেলো। সেই কোডটা সাজালে বোঝা গেলো এটি একটি ওয়েব পেইজের অ্যাড্রেস। পেইজটিতে রংগরংগ ভাষায় লেখা ছিলো কিছু। তা জানার জন্য লুৎফর রেহমানের কাছে যাওয়া।
রেহমানকে সব বলার পরে তিনি তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা বলেন যে অর্গানাইজেশন থেকে তাকে তুলে নিয়ে বলা হয়েছিল এই রংগরংগ ভাষা থেকে দূরে থাকতে। তারপর মুনসুর সাহেবের বাসায় এসে টেলিফোন সেটটা খুলে দেখ গেলো সেটের উল্টো পাশে খোদাই করে ইংলিেশ লেখা এটা অনুমোদন করা হয়েছে শুধুমাত্র অর্গানাইজেশনের পেশাদারদের জন্য। (Phool Lagle Cheye Niben)
পুলিশের সাহায্য নিয়ে জানা গেলো ফারাবীকে জিয়েক্সা ফার্মাসিউটিক্যালে দেখা গেছে। আর মুবিন সাহেবের শ্বশুরের সাথে কথা বলে জানা গেলো টেলিফোনটা জিয়েক্সা ফার্মাসিউটিক্যালের।
বিভিন্ন যুগের সভ্যতা অনুযায়ী রংগরংগ ভাষাকে শয়তানের ভাষা হিসেবে আখ্যায়িত করা আছে। আরও জানা গেছে ফার্মাসিউটিক্যালস একটা শ্যাডো অর্গানাইজেশনের জন্ম দিয়েছিল এবং নাম দিয়েছিলো দ্য অর্গানাইজেশন।
ইলাহী সাহেবের থেকে কথা বের করতে গিয়ে তিনিই সবাইকে ধরে নিয়ে আটকে দিলেন। অনেক প্রশ্নের পর একটা নারী কন্ঠ শোনা গেলো এবং মুখোশটা খুলতেই দেখা গেলো নবকে। দেখে কবে ফিরেছে জানতে চাইলে সে বলে সে কখন বিদেশে যায়নি। কিন্তু নিজের হাত কেটে ফেলেছে। (Phool Lagle Cheye Niben by Nosib Ponchom Zehadi)
নব বলে তার বাবার লাইব্রেরিতে তার বাবার একটি ছবি পায় যেটা ১৮৯৬সালের। কিন্তু তার জন্ম ১৯৪৩। তখন সব কাগজ, বইপত্র ঘাটতেই পাওয়া গেলো এতগুলো কোড ল্যাংগুয়েজ। হাত কাটার পর হাসপাতালে চোখ খুলে সবার প্রথম তার বাবাকে দেখে সে।
ফার্মাসিউটিক্যালে সেদিন ফারাবী নবকে দেখার জন্য তাকে তুলে নিয়ে এসে তার স্মৃতি থেকে কিছু অংশ মুছে দেওয়া হয়েছে। (Phool Lagle Cheye Niben by Nosib Ponchom Zehadi)
ফারাবী ছাড়া বাকি তিনজনের সবকিছুই মনে আছে। তাকে খুঁজতে গিয়েই কত কিছু হল, তাই গাড়িতে লাগানো চিরকুট নিয়ে আর কিছু করলো না কেউ।
উপসংহারের পরে – Phool Lagle Cheye Niben by Nosib Ponchom Zehadi
রাত দেড়টার সময় জহির মাহমুদের ছাদ থেকে ইমতিয়াজের ছাদে একটা অবয়বকে দেখা গেলো। পরের দিন সকালে দরজা খুলতেই একটা ফুলের তোড়া পাওয়া গেলো।তাতে সুন্দর একটা অর্কিড রয়েছে। সেখানে লিখা ছিলো – কখনও ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন।
Bangla Book Review
এই বইটির অডিও গল্প শুনতে চাইলে Dishas Storyplate